MRT-1 এর সবচেয়ে বড় ত্রুটি কী জানেন?

 MRT-1 এর সবচেয়ে বড় ত্রুটি কী জানেন?

সেটা হলো এর উত্তর অংশ এয়ারপোর্টে এসে শেষ হওয়া।


রেলস্টেশন, বাসস্ট্যান্ড, বিমানবন্দর, BRT, এলিভেটেড একপ্রসওয়ে—সব কিছু মিলিয়ে ঢাকার এয়ারপোর্ট এলাকার বর্তমান অবস্থা এক কথায় 'জাহান্নাম'। গাড়ির জ্যাম, রাস্তায় চলাচলের অরাজকতা, ভিড় আর ধুলা—এ যেন ঢাকার কেন্দ্রবিন্দুতে এক বিরাট ভোগান্তি। আর তার ওপর যদি মেট্রোলাইন চালু হয়, তবে এটি শুধু গোদের ওপর বিষফোঁড়া হবে। কারণ, মেট্রো যাত্রীদের জন্য এখানে শেষ স্টপেজ হবে। ফলে, উত্তরাঞ্চলের হাজার হাজার যাত্রী, যারা মেট্রোর মাধ্যমে গন্তব্যে পৌঁছাতে চায়, তারা একে একে এসে নামবে বিমানবন্দরের কাছাকাছি, যেখানে আগেই ভিড় রয়েছে।

এটা হতে পারে আরও বিশাল সমস্যার সৃষ্টি, কারণ এখনই এয়ারপোর্ট এলাকায় যে পরিমাণ যানজট এবং ভিড় রয়েছে, তার সাথে যদি মেট্রো যাত্রীদের যুক্ত করা হয়, তাহলে পরিস্থিতি আরও অবর্ণনীয় হয়ে যাবে। তাই, সঠিক পরিকল্পনা ছাড়া মেট্রোলাইন চালু করা উচিত হবে না।

অথচ, সমাধানও অনেক সহজ। আজমপুর বা আব্দুল্লাহপুরের কাছাকাছি কোনও স্টেশন স্থাপন করা হলে, যাত্রীরা যাদের এয়ারপোর্টে নামার প্রয়োজন নেই, তারা সেখানেই নামতে পারবেন। এতে বিমানবন্দর এলাকায় যাত্রীদের চাপ কমবে এবং উত্তরের অংশের যাত্রীদের জন্য একটি সুবিধা হবে। এটা শুধু মেট্রো যাত্রীদের জন্য নয়, বরং সাধারণ যাত্রীদের জন্যও দীর্ঘমেয়াদী সুবিধা বয়ে আনবে। সেক্ষেত্রে, যাত্রীদের যাত্রার সময় এবং রাস্তায় চলাচল আরও নির্বিঘ্ন হবে।

এছাড়া, কমলাপুরের স্টেশন এবং MRT-৬ এর অভিজ্ঞতা থেকেই আমরা শিখতে পারি যে, পরিকল্পিতভাবে মেট্রো লাইনের স্টপেজ গঠন করলে এটি ঢাকার যানজট কমানোর পাশাপাশি সুষ্ঠু ট্রান্সপোর্ট সিস্টেম তৈরিতে সাহায্য করতে পারে। তাই, আমাদের উচিত পরিকল্পনার ক্ষেত্রে বেশি দূরদর্শী হওয়া এবং উত্তর অংশের যাত্রীদের জন্য সুবিধাজনক ব্যবস্থা তৈরি করা। MRT-১ এর অভিজ্ঞতা থেকে প্রমাণিত, সঠিক স্টপেজ নির্বাচন করলে রাজধানীর গণপরিবহন ব্যবস্থায় বড় ধরনের পরিবর্তন আনা সম্ভব।

Comments