বাংলাদেশে আওয়ামী লীগের শাসনে নাগরিক অধিকার লঙ্ঘন: ১৬ বছরের শাসনে জনগণের প্রতি অবিচার

 


বাংলাদেশে গত ১৬ বছর ধরে আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় রয়েছে এবং এই সময়কালে দেশের সাধারণ জনগণ, বিশেষ করে বিরোধী দল, সাংবাদিক, এবং মানবাধিকার কর্মীরা বিভিন্ন ধরনের নিপীড়ন ও শোষণের শিকার হয়েছে। ক্ষমতার অপব্যবহার, গণতান্ত্রিক অধিকার খর্ব, এবং নাগরিকদের প্রতি অবিচার যেন এই সরকারের অন্যতম বৈশিষ্ট্যে পরিণত হয়েছে।



অবাধ মতপ্রকাশের স্বাধীনতার সংকোচন

বিভিন্ন সময়ে সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে দমন-পীড়ন চালানো হয়েছে। সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতাকে সংকুচিত করার জন্য আওয়ামী লীগ সরকার সংবাদপত্র, টেলিভিশন চ্যানেল এবং অনলাইন প্ল্যাটফর্মে গণমাধ্যম কর্মীদের উপর কঠোর নজরদারি ও হস্তক্ষেপ করেছে। ২০১৮ সালে ‘ডিজিটাল সিকিউরিটি অ্যাক্ট’ এর মাধ্যমে সরকার বিরোধী মন্তব্য বা প্রতিবাদকে দমন করার জন্য আরো শক্তিশালী একটি হাতিয়ার তৈরি করেছে, যা সুশীল সমাজ এবং মিডিয়াকে ভয়ভীতি প্রদর্শন করতে ব্যবহৃত হয়েছে।

বিরোধী দলের নেতাদের নিপীড়ন

আওয়ামী লীগ সরকার বিরোধী দল বিএনপি ও অন্যান্য রাজনৈতিক দলের নেতাদের বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা ও রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে গ্রেফতার করে এসেছে। দলের নেত্রী খালেদা জিয়া দীর্ঘদিন ধরে কারাগারে রয়েছেন, যেখানে তার স্বাস্থ্য খারাপ হওয়ার পরও চিকিৎসার সুযোগ দেওয়া হয়নি। অন্যদিকে, ২০১৪ সালে একদলীয় নির্বাচন আয়োজন, যা ব্যাপকভাবে ভোট ডাকাতি হিসেবে পরিচিত, মানুষের আস্থার প্রতি চরম অবজ্ঞা প্রদর্শন করেছে।

গণতন্ত্রের হত্যাকারী ক্ষমতা কুক্ষিগত করা

আওয়ামী লীগের শাসনামলে বিরোধী দল, নাগরিক সমাজ, এবং মানবাধিকার কর্মীরা বারবার অভিযোগ করেছেন যে, সরকার গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানগুলোকে দুর্বল করে ফেলেছে এবং একদলীয় শাসন ব্যবস্থা কায়েম করতে নিরলস চেষ্টা চালাচ্ছে। তারা নির্বাচনে ব্যবস্থার শুদ্ধতা এবং জনগণের সঠিক প্রতিনিধিত্বের প্রতি আস্থা হারিয়ে ফেলেছে। নির্বাচনী ব্যবস্থার প্রতি মানুষের অনাস্থা বেড়েছে, যেখানে নির্বাচন কমিশন এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী সরকারকে সমর্থন দিয়ে এসেছে।

অবাধে নাগরিক অধিকার হরণ

এছাড়া, বাংলাদেশে বিচার বিভাগ এবং অন্যান্য সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানগুলো আওয়ামী লীগের কর্তৃত্বে চলে যাওয়ার ফলে, বিচার ও আইনের শাসন অনেকটাই প্রশ্নবিদ্ধ হয়ে পড়েছে। মানবাধিকার সংগঠনগুলোর রিপোর্টে প্রকাশিত হয়েছে যে, সরকারের পক্ষ থেকে নানাভাবে পুলিশি হস্তক্ষেপ, গুম, নির্যাতন, এবং হত্যা চালানো হচ্ছে। জনগণের মৌলিক অধিকারের প্রতি সরকারের দৃষ্টি পুরোপুরি অদৃষ্ট।

জনগণের অধিকার আদায়ের সংগ্রাম অব্যাহত

এমনকি দেশের বৃহত্তম শহর ঢাকা ও অন্যান্য শহরে, নাগরিকদের বিক্ষোভ বা প্রতিবাদ সভাগুলোতে হামলা চালানো হয়। প্রতিবাদী জনগণকে গুম করা বা হুমকি দেয়া একটি স্বাভাবিক ব্যাপারে পরিণত হয়েছে। এই ১৬ বছরে আওয়ামী লীগ সরকার জনগণের সাথে প্রতারণা করে দেশের শাসনক্ষমতা দীর্ঘায়িত করেছে, কিন্তু জনগণের অধিকার হরণের এই ধারাকে প্রতিরোধ করতে জনগণ সর্বদা সংগ্রাম চালিয়ে যাবে।

সর্বোপরি, বাংলাদেশের সাধারণ নাগরিকদের প্রতি আওয়ামী লীগ সরকারের আচরণ অতীতের চেয়ে আরও কঠোর এবং নিপীড়নমূলক হয়ে উঠেছে, এবং সেইসাথে জনগণের প্রতি সরকারের অবিচার অব্যাহত রয়েছে।

Comments